গুগল এডসেন্স সম্পর্কিত সকল তথ্য!

গুগল অ্যাডসেন্স হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম টেক জায়ান্ট গুগল ধারা উন্নয়নকৃত ও পরিচালিত একটি অনলাইন বিজ্ঞাপন পরিষেবা সংস্থা, এটি চালু হয়েছিলো ২০০৩ সালের জুন মাসে ১৮ তারিখে। গুগল এডসেন্সের দুটি পরিষেবা আছে একটি হচ্ছে  advertiser আরেকটি publisher


advertiser হিসেবে তারাই এডসেন্সের এর সাথে যুক্ত আছেন যাদের নিজস্ব কোম্পানি বা প্রতিষ্টান আছে, advertiser রা তাদের বিভিন্ন পোডাক্টের প্রচারনার জন্য গুগল এডসেন্সের এড ক্যাম্পেইন করে। আর publisher যারা কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা যাদের ইউটিউব চ্যানেল অথবা ওয়েবসাইট আছে তারা সেই বিজ্ঞাপন মার্কেটিং করে তাদের সেই ইউটিউব চ্যানেল অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, একজন advertiser যদি ১০০ ডলারের কোনো বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইন করে তাহলে গুগল ৭০ ডলার রেখে দেয় আর বাকি ৩০ ডলার publisher কে দেয়।


গুগল এডসেন্স সম্পর্কিত সকল তথ্য!



গুগল এডসেন্স নীতিমালা

আপনার ওয়েবসাইটে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে তাদের জাতি বা জাতিগত উৎস, ধর্ম, অক্ষমতা, জাতীয়তা, অভিমুখীত বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ঘৃণা উস্কে দেয়, কাউকে বাস্তব জীবনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া বা অন্য ব্যক্তির আক্রমণের আহ্বান জানানো, অন্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রচার করা, বেআইনি কার্যকলাপ, গ্রাফিক যৌন টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও এমন সামগ্রী থাকা যাবেনা। এই ধরনের কোন বিষয়বস্তু যদি থাকে তাহলে এডসেন্স পাবেন না। এগুলো ছাড়াও মোট ৫০ টি নীতিমালা আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০ টি নীতিমালা নিচে উল্লেখ করা হলো যেগুলোর কোনো একটা না মানলে আপনি কখনোই এডসেন্স পাবেন না।



১. আপনার ওয়েবসাইটে কোনো কপিপোষ্ট থাকা যাবেনা না, বা অন্যের ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা কোনো আর্টিকেল হুবহু যদি আপনার ওয়েবসাইটে  থাকে তাহলে কখনোই এডসেন্স পাবেন না।


২. আপনার ওয়েবসাইটের বয়স ৬ মাস হতে হবে, কারো কারো ক্ষেত্রে ৩-৪ মাসের মধ্যে এডসেন্স এপ্রুভাল হয়ে যায়, তবে সবচেয়ে ভালো হয় সাইটের বয়স ৬ মাস বা তার বেশি হলে এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করা। এতে করে রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা নাই।


৩. আপনার ওয়েবসাইটে যেই থিমটি ব্যবহার করেছেন সেই থিমটি মোবাইল রেস্পন্সিব হওয়ার পাশাপাশি এসইও ফ্রেন্ডলি হতে হবে। দেখা গেল আপনি যেই থিম টি ব্যবহার করছেন সেখানে বিজ্ঞাপন প্লেসমেন্ট করার 


৪. গুগল এডসেন্স এর অন্যতম জরুরি হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে about, contact, privacy policy এবং copyright issue নামের ৪ টি পেজ থাকতে হবে।


৫. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে যে গুগল এডসেন্স এপ্রুভলের জন্য ওয়েবসাইট কতটি পোষ্ট থাকা দরকার? আমার পরিচিত এমন অনেকেই আচেন যারা মাত্র ১২-১৪ টি দিয়েই গুগল এডসেন্স এপ্রুভলের পেয়েছেন, তবে সবথেকে ভালো হবে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ৩০ টি পোষ্ট পাবলিশ করার পর গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন।


৬. আপনার ওয়েবসাইট টি গুগল সার্চ কনসোলে যুক্ত থাকতে হবে যাতে করে একজন ভিজটর খুব সহজেই গুগলের সার্চ করে সেটি খুঁজে পায়।


৭. ব্লগার ড্যাসবোর্ড Stats নামে একটি অপশন আছে সেখানে গেলে আপনার ওয়েবসাইটের পোষ্ট গুলো কতবার ভিউ হয়েছে সেগুলো দেখতে পারবেন, তবে ইউনিক ভিউ বা ইম্প্রেশন দেখতে পারবেন যখন দেখবেন প্রতিদিন ৫০০+৬০০ ভিউ আসতেছে তখন এডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন।


৮. আপনার ওয়েবসাইট টি গুগল সার্চ কনসোলে যুক্ত করার পর সার্চ ইঞ্জিন থেকে ইউনিক ভিজিটর আসতে শুরু হবে যখন সার্চ কনসোলে ১০০+ ক্লিক থাকতে হবে তখন গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন।


৯. আপনার সাইটে যতগুলো পোষ্ট আছে একটা একটা করে সব গুলো যদি কোনো পোষ্ট বা পেজ ইনডেক্স না থাকে তাহলে ইনডেক্সের জন্য রিকুয়েষ্ট করে দিবেন এবং সবগুলো পেজ ও পোষ্ট গুগলে ইনডেক্স হওয়ার পর আবেদন করবেন।


১০. গুগল সার্চ করে যখন কোনো ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে আসে এবং সেই পেজ টি যদি ইরর দেখায় তাহলে এডসেন্স এপ্রুভালে সমস্যা হতে পারে। তাই এডসেন্স আবেদন করার আগে আপনার সাইটে কোনো পেজ ইরর আছে কিনা ভালো ভাবে চেক করে নিবেন।



আবদেন করার নিয়ম

যখন আপনার ওয়েবসাইটের এই ১০ টি নীতিমালা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এবং আপনার ওয়েবসাইট টি যদি ব্লগারে হয়ে থাকে তাহলে আপনার ব্লগার ড্যাসবোর্ডে earning নামে একটি অপশন দেখতে পারবেন সেখানে গিয়ে খুব প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে তারপর আপনার ওয়েবসাইটের নাম ও লিংক দিয়ে আবেদন করতে হবে।



পিন ভেরিফাই করা

এডসেন্স এপ্রুভ হওয়ার পর এড কোড জেনারেট করে আপনার ওয়েবসাইটে এড প্লেসমেন্ট করতে হবে, তারপর আপনার ইনকাম শুরু হবে, আপনার একাউন্টে যখন ১০ ডলার হবে তখন পিন ভেরিফাই করতে হবে। আর পিন ভেরিফাই করার জন্য আপনার এডসেন্স একাউন্টে গিয়ে নাম ঠিকানা মোবাইল দিয়ে প্রোফাইল সম্পূর্ণ করতে হবে। আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণ করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনার ঠিকানার পোস্ট কোড, আপনি আপনার এলাকার সঠিক পোষ্ট কোড দিতে হবে যেই পোস্ট কোড টি দিবেন সেই পোষ্ট অফিসে একটা চিঠি আসবে সেই চিটিতে একটা পিন থাকবে সেই পিন টি আপনার এডসেন্স একাউন্টে দিয়ে পিন ভেরিফাই করতে হবে। ৭ থেকে ২৮ দিন লাগতে পারে।



উইদ্রো করার উপায়?

আপনার এডসেন্স একাউন্টের পিন ভেরিফাই করার পর যখন ১০০ ডলার হবে তখন ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে উইদ্রো দিতে পারবেন, আপনি চাইলেও ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে উইদ্রো দিতে পারবেন না।



সবশেষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে অনেক ভিডিও দেখবেন যেখানে বিভিন্ন টিপস ট্রিক বা কৌশল অবলম্বন করে গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল নেওয়া যায়। সেদিকে নজর দিবেন না। হ্যাঁ এটা সত্য যে বিভিন্ন টিপস বা কৌশল অবলম্বন করে খুব সহজেই এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়া যায়, তবে সেগুলো বেশি দিন টিকে না, হয়হো ৪-৫ দিন পর সাসপেন্ড ও নাহয় ডিজেবল হয়ে যায়, আপনি ইচ্ছে করলে এসব কৌশল অবলম্বন করে প্রতিদিন এডসেন্স এপ্রুভাল নিতে পারবেন, কিন্তু লাভ কি যদি সেগুলো দুদিন পর সাসপেন্ড হয়ে যায়? তাই এসব পিছনে না ছুটে সঠিক নিয়ম মেনে এডসেন্স এর জন্য আবেদন করুন একবার এপ্রুভাল হলে কখনোই সেটা সমস্যা হবে না। সাথেই থাকুন পরবর্তীতে আরো কিছু তথ্য যুক্ত করা হবে।


Post a Comment

1 Comments

  1. গুগল এ্যাডসেন্স সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া জন্য ধন্যবাদ।

    ReplyDelete